মা দিবসের শুভেচ্ছা

মা দিবসের শুভেচ্ছা
ভালো থাকো মা

Sunday, May 11, 2014

মা মা মা

মা ফোন করে বললেন- কি রে তুই নাকি ওই মাইয়ারে এখনও পছন্দ করস ? যদি উল্টা পাল্টা কিছু শুনছি, তোর ঠ্যাঙ ভাইঙ্গা ঘরে বসায়া খাওয়ামু !
মা এরকম অনেক কিছুতেই আমার ঠ্যাঙ ভাঙেন। অনেক কিছুতেই ভয়ানক রেগে যান। সে শুধু ফোনে। বাস্তবিক ঠ্যাঙ ভাঙ্গাটা তাঁর কোনদিন হয়ে উঠে না। একটু আর্দ্র কণ্ঠে ডাক দিলেই ভয়ার্ত কণ্ঠে বলে ওঠেন- কি হইছে বাবা ?
ঠ্যাঙ ভেঙ্গেছিলাম - আমি নিজেই। অনভ্যস্ত হাতে মোটর বাইক চালাতে গিয়ে - ধপাস! পড়ে যাবার ঠিক এক মিনিটের মাঝেই মা’র ফোন। বাবা , তুই ঠিক আছিস তো ? কী অবাক বিস্ময় ! সন্তানের বিপদের খবর মায়ের কাছে এতো দ্রুত পৌঁছায় কি করে ? সেদিন বুঝেছিলাম - সন্তান এবং মায়ের মাঝে অদ্ভুত এক নেটওয়ার্ক কাজ করে । একে কি টেলিপ্যাথি বলা হয় ? নাকি তার চেয়েও বেশি কিছু ?
ভীষণ অবাক হয়েছিলাম। চোখে জল এসে গিয়েছিল। ব্যথায় নয়। পৃথিবীতে অনেকের মা নেই। আমার মা আছেন। সেই অদ্ভুত অসঙ্গায়িত আনন্দে! আমার মা আছেন – এর চেয়ে উল্লসিত হবার মত বিষয় আর কি কিছু হতে পারে ?
আপন ভুবনে পরবাস- আমার হয়েছে এই দশা। মা গ্রামে থাকেন , আমি ঢাকায় থাকি। কাজের চাপে বাড়ীতে খুব কম যাওয়া হয় । মা কিছুক্ষণ পরপর ফোন করতেই থাকেন। মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে যাই। বলি – মা, এতো ফোন কর কেন? আমি কি ছোট বাচ্চাটি আছি , হারিয়ে যাব? মা হাসেন। বলেন – সময় হইলেই বুঝবি।
আমি জানি ঘণ্টায় ঘণ্টায় ফোন করার কোনই কারন নেই। আমি জানি,মা শুধুমাত্র আমার কণ্ঠস্বর শুনতে চান, আমাকে উপলব্ধি করতে চান।
মা ! তুমি কথায় কথায় আমার ঠ্যাঙ ভাঙ্গতে চাও! কিন্তু আমি জানি- আমার ঠ্যাঙ দুটোকে দৃপ্ত পদক্ষপে সামনে এগিয়ে যাবার পথে যারা শুভাকাঙ্ক্ষী – তুমি অবধারিত ভাবেই তাঁদের দলপ্রধান।
বেশ কিছুদিন মাকে দেখিনা। আজ বিশ্ব মা দিবস।
মাগো ! বড় বেশি মিস করি তোমাকে ! খুব ভালোবাসি,খুউব,খুউব...... 

মা সাধারণ মানুষ

আক্কাছ সাহেব খুব সূক্ষভাবে ক্যালেন্ডার পর্যবেক্ষন করছেন। একেবারে খুটায়ে খুটায়ে দেখা যাকে বলে। ছুটির দিনের খোঁজে তিনি প্রায় এই কাজ করে থাকেন। কিন্তু অধিকাংশ দিনই ছুটি থাকেনা। ঠিক এ অবস্থায় তার বউয়ের অনুপ্রবেশ --- - তুমি কী জান কাল না মা দিবস? - তাই!!! কাল কী সরকারি ছুটি? - আরে ধূর!!! মা দিবসে ছুটি থাকবে কেন? - ও!!! তো কী হইছে? - না, আমার একটা শাড়ি কেনা লাগবে আর কিছু টাকা লাগবে মায়ের জন্য গিফট কেনার - ( ওরে হয়িন্নি, মা তোর, আর ট্যাকার বেলাই এই আক্কাছ? ) তো তোমার মা, তুমি দাও, আমাকে আবার টানার দরকার কী? আর তুমি নিজে থেকে দিলে উনি আরও বেশি খুশি হবেন, তাই না!!! - তার মানে!!! আমার মা তোমার মা না??? আর মাকে কী আমি তোমার কথা বলব? আমি তো বলব আমি দিচ্ছি। - (ওরে হয়িন্নি, দিমু আমি আর নাম নিবা তুমি) আচ্ছা ঠিকাছে। ঠিক তখনই আক্কাছের মনে পড়ল মা দিবসের কথা, প্রতি জন্মদিনের আক্কাছ বহুজনের কাছে গিফট পেত কিন্তু ওর মা ওকে দিত স্পেশাল কিছু যার জন্য ও সারাবছর অপেক্ষা করত। কিন্তু ও সেভাবে কিছুই দিতে পারেনি। বিয়ের পর বউকে শত শত গিফট দিলেউ মা কে যে কিছুই দেওয়া হয়নি। তো আক্কাছ সাহেব ভাবতে থাকে কী দেওয়া যায়, কী দেওয়া যায়.... (একখান টিভি দেই, নাহ!!! মেলা দাম, ১৫ হাজারের তলে নাই, তাও আম্মার আবার চোখে সমস্যা, বড় টিভি লাগব, থাক আর টিভি দিমু না, তাহলে কী দিমু, পাইছি একখান পুতুল... নাহ!!! আম্মা পুতুল লইয়া কী করব, ইশ!!! একখান আইডিয়া যদি বাড়াইত, হুম..... ইয়েস, পাইসি, আম্মারে কেক রাইন্ধা খাওয়ায়, ছুডুবেলায় আম্মা কইছিল, " আক্কাইচ্ছা, তুই আর যাই পারস, রাঁধতে পারবি না। " আইজ আম্মারে চমকাইয়া দিমুই দিমু।) তো যেই ভাবা সেই কাজ, খুব কষ্টে আক্কাছ সাহেব একটা রান্নার বই বের করল আর ওটা পড়ে কাজ করতে থাকল। তো বই অনুযায়ী আক্কাছ সাহেব ঠিক করল কেক বানানোই সোজা, সুতরাং সে কেকই বানাবে, বই পড়ে বিষয়বস্তু ভালোমতো বুঝে নিয়ে আক্কাছ সাহেব শুরু করল, প্রথমে একটা বাটিতে তেল, ময়দা, ডিম, পানি মিক্স করতে শুরু করল আক্কাছ সাহেব। কিন্তু কিছুতেই যেন হয়ে উঠেনা, তবে সারা গায়ে একটু ময়দা, ডিম লেগে আছেই, এ অবস্থায় বেল বাজল, আক্কাছ সাহেব গেলেন দরজা খুলতে....... - কিরে, আক্কাইচ্ছা, কী হাল করছস নিজের? - না, মানে... - বাড়িত বউমা নাই? - না, একটু বাপের বাড়ি গেছে। - ও, তা তুই রান্না করতাছস কার লাইগা? - তুমার লাইগা, - ক্যা? - ওমা!!! তুমি জাননা আইজ মা দিবস ------------------------ বাকী টুকু আক্কাছ ও তার মায়ের ভালোবাসা। এভাবেই শতশত আক্কাছ তার মাকে মা দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। আমিও বলি.... শুভ মা দিবস

শুভেচ্ছা

সকল মা-কে 'মা' ব্লগ থেকে  'মা' দিবসের শুভেচ্ছা।
মা তোমায় ভালবাসি।
তোমার জন্য নিরন্তর শ্রদ্ধা।